বইমেলার কেনাকাটা শেষ হয়েছে। টিএসসিতে চা খাচ্ছি। একটু আগেই খবর পেয়েছি, কালকের ক্লাস অনলাইনে হবে আর এরমধ্যেই একটা ক্যান্সেল হয়ে গেছে। মনের সুখে চায়ের কাপে চুমুক দিলাম। মেসেঞ্জারে একটু উঁকি দিয়ে দেখি আয়েশা বইমেলা যাওয়ার কথা বলছে। আমি বললাম, আমি তো ভাই এখন বইমেলাতেই আছি।
আয়েশা অবশ্য ফেব্রুয়ারি মাস শুরু হওয়ার দেড় সপ্তাহ পর থেকেই বইমেলায় যাওয়ার কথা বলছে এবং প্রতি বৃহস্পতিবার (প্রায়) চলেই যায়।
এককালে বাসা থেকে হেটে হেটে বইমেলা চলে যেতাম। কিন্তু এখন ঢাকা শহরের অর্ধেক জ্যাম ঠেলে বিতিকিচ্ছিরি রকমের একটা জার্নি করে তারপর বইমেলা পৌঁছাতে হয়। কাজেই বইমেলায় বসে পরদিন আবার বইমেলায় আসার কথা ভাবতেই যন্ত্রণা লাগলো।
বইমেলা এর আগেও এসেছিলাম একদিন। সকাল সাড়ে আটটা থেকে ক্লাস করে দুপুরে বের হয়েছিলাম। অভ্র ছিল সঙ্গে। বছরের এই একটা সময়ই ওর সাথে দেখাসাক্ষাৎ হয় এখন।
বাসায় ঢুকেই দেখি শবনম মোস্তফার মেসেজ, কালকে বইমেলা যাবো নাকি। আমি বললাম, বইমেলা থেকেই মাত্র এলাম। একটু পর দেখি জারিনেরও মেসেজ…পরদিন যেহেতু ক্লাস ক্যান্সেল হয়ে যাচ্ছে, আর হলেও অনলাইনে তাই ঠিক করলাম, যাই, একটু ঘুরেই আসি।
কোথাও যাওয়ার কথা উঠলেই প্রথমে যেই কাজটা করা হয় সেটা হচ্ছে মেসেঞ্জারে গ্রুপ খোলা। দেখা যায় ট্যুর হয়নি কিন্তু মেসেঞ্জারে গ্রুপ রয়ে গেছে। ব্যাপারটা কাল্পনিক না, এরকম ঘটনা অহরহই ঘটে। যাইহোক, একটু পর দেখলাম আমি একটা গ্রুপে অ্যাড হয়ে গিয়েছি। সেই গ্রুপ থেকেই জানলাম আমরা শুধু বইমেলাতেই যাচ্ছি না, বইমেলা যাওয়ার আগে পুরান ঢাকায় গিয়ে কাচ্চি খাবো। কাচ্চি আমার পছন্দের খাদ্য না। পুরান ঢাকা আরো অপছন্দের জায়গা। তবে ইন্সটাগ্রাম রিলে ঢাকার মতো অবসবাসযোগ্য একটা শহরকেও পৃথিবীর ক্ল্যাসিক অ্যাস্থেটিক শহরে রূপদানকারী ভাইয়া-আপুরা পুরান ঢাকাকে তার হারিয়ে যাওয়া গৌরব আর সৌন্দর্য অ্যাস্থেটিক ফিল্টারের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনছে।
২
বাসে উঠে বসলাম। প্ল্যান হচ্ছে মিরপুর ১২ থেকে প্রথমে যাবো আজিমপুর। এরপর রিকশা করে নাজিরাবাজার। আমরা যখন বাসে উঠলাম তখন সকাল আর দুপুরের মাঝামাঝি। মানুষজন যে যার কাজে চলে গেছে বলে রাস্তা বেশ ফাঁকা। ফাঁকা রাস্তায় বাস মিনমিন করে আধা ঘন্টা ধরে মিরপুর ১২ থেকে ১০ এসে পৌঁছালো।
বাসের প্রথম ছয়টা সিট আমাদের। একদম প্রথম সিটে আমি আর জারিন বসেছি। ঢাকা শহরের সব রাস্তাঘাট চিনে বলে আমাদের লিড দিচ্ছে জারিন। আমি ওর অ্যাসিস্ট্যান্ট। আমার সিট-টা দরজার সাথে বলে নিজেকে লাগছে বাসের হেল্পার।
ব্রিলিয়ান্টদের সঙ্গে বের হয়েছি। একথা সেকথা শেষ হওয়ার আগেই কথাবার্তা ঘুরে গেল পড়ালেখায়। এতক্ষণ চুপ করে থাকা তানভীর হঠাৎ দারুণ উৎসাহের সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণ করলো। আমি বাসের ড্রাইভারের দিকে তাকালাম। দুদিন পরপর পত্রিকায় যে খবর বের হয় খুব শীঘ্রই ঢাকা শহরের হাটার স্পিড গাড়ির স্পিডকে ছাড়িয়ে যাবে- দেখে মনে হচ্ছে অলরেডি ছাড়িয়ে গেছে। পড়ালেখার আলাপ শেষ হতে হতে খানিকটা হেটে আসবো নাকি? অবশ্য বাসের যেই গতি- দেখা যাবে এখানেই দাঁড়িয়ে আছে। উল্টো আমাকেই কষ্ট করে আবার হেটে হেটে ফিরে আসতে হবে।
পড়ালেখার টপিক থামলো বাসে হেডফোন ফেরিওয়ালা ওঠার পর। রিয়েলমি অরিজিনাল হেডফোন, যেটা মার্কেটে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা সেটা এখন মাত্র সত্তর টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আইফোন ইউজার জারিন আমাকে বললো, দেখ তো কেমন।
আমি দেখলাম। দেখে বললাম, ৬০টাকা হলে ঠিক ছিল।
৩
মিনমিন করতে করতে বাস একেবারে থেমেই গেল আসাদগেটে গিয়ে। কাগজপত্রের ঝামেলা। ড্রাইভার কাকে যেন বারবার ফোন দিচ্ছে। একটু পর ড্রাইভার বাস থেকে নেম গেল!
মেইনরোডে বাস সাইড করে দাড় করানো। পাশ দিয়ে সাই সাই করে মহানগরের সব গাড়ি ছুটে চলেছে, বাসভর্তি মানুষের ধৈর্যের দৈর্ঘ্য কমে আসছে। কিন্তু ড্রাইভার নেই!
কিছুক্ষণ পর ড্রাইভার এলো। কিন্তু বাস ছাড়লো না। আমি লোকটার দিকে এবার ভালো করে তাকালাম। বেশ বয়স্ক, অনেকদিন গাড়ি চালাচ্ছে বোঝা যায়। ‘আমার ডেরাইভিং এর ওস্তাদ’ টাইপ ডায়লগ এককালে নাটক-টেলিফিল্মে মাঝেমধ্যে শোনা যেত। এই লোকের চেহারায় সেই ওস্তাদ ড্রাইভারের ভাবটা আছে।
যাইহোক, বাস চালু হওয়ার কোন নিশানা দেখা গেল না। এরকম ব্যাপারে প্রথমে কেউ একজন কথা না বললে বাকিরা কখনোই কিছু বলে না। এবারও সেটাই হলো। পেছন থেকে কেউ একজন ড্রাইভারকে বাস ছাড়তে বললো। সঙ্গে সঙ্গে আরো কয়েকজন তার সঙ্গে গলা মেলালো৷ আমাদের ড্রাইভার নির্বিকার।
হঠাৎ এক অতি উৎসাহী (সদ্য) তরুণকে এগিয়ে আসতে দেখলাম। চোখের পলক ফেলার আগে দেখি বাসের মধ্যে মারামারি লেগে গেছে৷ ছেলেটা ড্রাইভারকে মারছে। ড্রাইভারও কিছু দেয়ার চেষ্টা করছে তবে সুবিধা করতে পারছে না। কয়েকজন মাঝবয়সী লোক ছেলেটাকে আটকালো। মাথা ঠান্ডা করে সিটে পাঠানোর চেষ্টা করে অর্ধসফল হলো। ছেলেটা সিটে গেল কিন্তু যাওয়ার আগে ‘দাড়া তোকে দেখাচ্ছি মজা’ বলে দলবলকে ফোন দেয়া শুরু করলো। কথাবার্তা শুনে নিমিষেই বুঝে গেলাম আজ কলেজের ঐতিহ্য রক্ষা হবে। বাস কি একটা ভাঙবে নাকি সিরিজ চলবে সেটা যখন ভাবছি তখন জারিন বললো, ঢাকা কলেজ আসার আগেই বাস থেকে নেমে যেতে হবে। আমরা সবাই একমত। শুধু তানভীর ছাড়া।
কোথায় নেমে কীভাবে গেলে কম খরচে তাড়াতাড়ি যাওয়া যায় তা জানতে জারিন ওর এক বন্ধুকে ফোন দিলো। ওর বন্ধু তখন ক্লাসে, ফোনে পাওয়া গেল না। বাস তখন ছেড়েছে। ওর বন্ধুর সঙ্গে কথা হলো একটু পর। ঠিক হলো আমরা ল্যাবএইডে নেমে রিকশা বা সিএনজি নিয়ে পুরান ঢাকা যাবো। সেখান থেকে পরে বইমেলা।
৪
ল্যাবএইডের সামনে অনেক সিএনজি রিকশা কিন্তু কোনটাই নাজিরাবাজার যাবে না। এক সিএনজিওয়ালা সাইনবোর্ড দেখিয়ে দিল- তার যাত্রার দৌড় সীমিত। উবার পাঠাও ওভাই দেখলাম। রিকোয়েস্ট দিয়ে সামনে যেই রিকশা আসে তাকেই বলি। কেউ যাবে না৷ উবারেও কেউ এলো না। তানভীর বলে যাচ্ছে, কি দরকার ছিল নামার? এখান থেকে তো কালশীই চইলা যাইতে পারি। শুধু শুধু নামলাম…।
ঠিক করলাম আমরা রিকশায় আজিমপুর যাবো৷ এরপর আবার আজিমপুর থেকে নাজিরাবাজার। ছয়জন মানুষ। তিনটা রিকশা ঠিক হলো। অনেকদিন পর এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি। ঢাকা কলেজের সামনে এলাম। সব নরমাল। হঠাৎ দেখি আমাদের একটু সামনেই ওই বাসটা যাচ্ছে।
গাউছিয়ার রাস্তাটা আমার খুবই বিরক্তিকর লাগে। এত মানুষ আর গাড়ি! কোন কারণ ছাড়াই জ্যাম লেগে যায়। রিকশাওয়ালা চিপাচাপা দিয়ে খালি জায়গা পেলেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বেশিরভাগ সময়ই পারছে না।
তানভীর বললো, আমি বলসিলাম না কিছু হবে না।
কিছু বললাম না। সামনে হঠাৎ সবাই দৌড়ে আসছে। বাসটা থেমে গেছে। আমাদের রিকশার ডান সাইডে একটু গ্যাপ পাওয়া গেছে। রিকশাওয়ালা সারাক্ষণ আধ ইঞ্চি জায়গা পেলেও সেখান দিয়ে এসেছে। কিন্তু এখন এত বড় গ্যাপ তার চোখে পড়ছে না। কৌতূহল নিয়ে সামনে তাকিয়ে ঘটনা বোঝার চেষ্টা করছে। তবে বুঝতে পারার আগেই পিছন থেকে আরেক রিকশাওয়ালা তাড়া দিলো। তানভীর বাকি কথাটা শেষ করলো। ‘বেশি বুইঝা নাইমা গেলে যা হয়।’
তানভীর যখন কথা বলছে আমরা তখন বাসটা ক্রস করছি। জানলা দিয়ে দেখলাম দ্রুতগতিতে বেশ কয়েকজন (সদ্য) তরুণ বাসে উঠছে। সামনে এক ছেলে ড্রাইভারের কলার ধরে রেখেছে। পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের সেই ঐতিহ্য রক্ষাকর্তা প্রতিবাদী ভাইটি।
৫
আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আমরা রিকশা নিলাম। একটু এগিয়েই জ্যামে পড়লাম। রিকশাওয়ালা বললো, এইখান থিকা হাইটা বকশীবাজার যান। এই জ্যাম ছুটতো না।
-ভাড়া কত দিবো?
-যা খুশি দ্যান।
বিশ টাকা দিয়ে নেমে হাটা দিলাম। ম্যাপ দেখে ফুটপাত দিয়ে বকশীবাজারের দিকে হাটছি। রাস্তায় একটা গাড়ি নড়ছে না। ম্যাপে দেখলাম বকশীবাজার পর্যন্ত পুরোটা লাল দাগ। জারিন বললো, কি করবি?
আয়েশাকে ফোন দিলাম। আয়েশা রিকশা থেকে নামেনি। জ্যামে বসে আছে। শবনমকে ফোন দিলাম। শবনমও জ্যামে। একটু এগিয়ে দেখি শবনম আর রায়া রিকশায় বসে আমাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছে।
আয়েশাকে আবার ফোন দিলাম। ঠিক হলো ও আর তানভীর টিএসসি যাবে। আমরা চারজনও ওখানেই যাবো। এরপর লাঞ্চ করে বইমেলায় ঢুকবো। বইমেলা শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই।
আমরা হাটতে শুরু করলাম। জ্যামে পড়া গাড়ির লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। চৌরাস্তা পার হওয়ার পর গাড়ি কমতে শুরু করলো।
একটা খালি রিকশায় রিকশাওয়ালা উদাস মনে বসে আছে। টিএসসি যাবে নাকি জিজ্ঞেস করলাম। ভাড়া চাইলো ত্রিশ টাকা। সোজা পাঁচ মিনিট হাটলেই টিএসসি। ত্রিশ টাকা ভাড়া হওয়ার কোন কারণ নাই। হেটেই যাওয়া যায়। তবু বললাম, বিশ টাকায় যাবেন?
-জে না। তিরিশ ট্যাকার নিচে যামু না। আপনেরা হাইটা যানগা।
আমরা হেটেই গেলাম। পাঁচ মিনিট লাগলো না। মিনিট দুই-তিনেক পরেই আমরা টিএসসি পৌঁছালাম।
এখন কথা হলো আমরা কি খাবো, কই খাবো?
টিএসসিতেই দুইটা জায়গা দেখালাম। জারিন বললো, বের করে দিবে না?
-বের করে দিবে কেন?
-আচ্ছা চল…দাঁড়া।
দাঁড়ালাম। জারিন ওর বন্ধুকে ফোন দিলো। বন্ধুর ক্লাস মাত্রই শেষ হয়েছে। আমরা এখন বন্ধুর কাছেই যাবো এফবিএসে। এফবিএস ক্যান্টিনে আজ আমাদের লাঞ্চ।
৬
গেট দিয়ে ঢোকার পর থেকেই আমার বন্ধুবান্ধবদের দেখা হতে শুরু করলো ওদের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে। চার কদম হাটার পর দুই মিনিট করে দাঁড়াতে হচ্ছে। এই দেখাদেখি পর্ব শেষ হলো ক্যান্টিনে যাওয়ার পর। লাঞ্চ শেষ করে ছবি-টবি তোলা শেষ করতে করতে দেখি তানভীর আর রায়া হাটা শুরু করে দিয়েছে। আমরাও হাটা দিলাম।
টিএসসি আসার পর জারিন জিজ্ঞেস করলো আমরা কেউ চা খাবো নাকি। চা তো খাবোই। তবে এখন না। ফেরার সময়
গেটে আয়েশা আর শবনমের অ্যান্টিকাটার ফেলে দিয়ে আমরা মেলায় ঢুকলাম। আমার বই-টই কেনার কোন প্ল্যান নাই। স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে ভীড় বাড়াচ্ছি। পাঞ্জেরীর স্টলে একটা জোকসের বই দেখে আয়েশা ওর নতুন হওয়া আঁতেল পরিচয়টা জানান দিলো। বললো, এমন একটা ইউনিভার্সিটিতে পড়ি প্রেশারে আর হাসি আসে না। স্টল থেকে উত্তর এলো, তাহলে তো আপু হাসি ফিরিয়ে আনতে আপনার এই বইটাই পড়া উচিত।
আমি হাসতে হাসতে সরে গিয়ে অন্য বই দেখা শুরু করলাম। চোখে পড়লো ট্রেজার আইল্যান্ড। এই বইটা পড়ার অনেক ইচ্ছা। অনেক বছর আগে মেলায় ঘুরতে ঘুরতে নাম আর প্রচ্ছদ দেখে চোখ আটকে গিয়েছিল কিন্তু কখনোই পড়া হয়নি। মাঝে একবার ইংরেজিটার সফটকপি শুরু করেছিলাম। কোনমতে দেড় পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়ে ইস্তফা দিতে হয়েছিল। আমি বঙ্কিমচন্দ্রের বাংলা পড়তেই হিমশিম খাই। আর এ তো…!
সে যাইহোক, আজকে এই বইটা নেয়া যায়। তবে পাঞ্জেরীর এই শর্টকাট ভার্সন না। ভালো অনুবাদে বিস্তারিত লেখা আছে এরকম ভার্সন লাগবে। সেই সঙ্গে প্রচ্ছদটাও সুন্দর হতে হবে। আমি রকমারিতে ঢুকে প্রচ্ছদ সুন্দর কোথায় পাওয়া যাবে খুঁজতে শুরু করলাম।
অনেক খুঁজে একটা বই পেলাম। এক দেড় পৃষ্ঠা পড়ে মনে হলো অনুবাদটা ভালোই হবে। দামও কম আছে। কিনেই ফেললাম বইটা। সেই বই পড়ার পর আমি আবার প্রতিজ্ঞা করেছি পারতপক্ষে জীবনে র্যান্ডম বাংলা অনুবাদ পড়বো না।
ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। আমরা তখন একটা স্টল খুঁজছি। অর্ধেক মেলা ঘুরেও স্টল খুঁজে পাচ্ছি না। হঠাৎ কে যেন ডাক দিলো। মাইক ক্যামেরা নিয়ে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো একটা গেম খেলবো নাকি। কী গেম? চিরকুটে ওঠা টপিকে বাংলায় তিরিশ সেকেন্ড কথা বলতে হবে। কোন ইংরেজি শব্দ বলা চলবে না (আরবি ফারসি পর্তুগিজ ইত্যাদি ইত্যাদি ভাষার শব্দ বললে সমস্যা নেই। এটা অবশ্য নিয়মে বলা ছিল না। অলিখিত নিয়ম বলা যেতে পারে)।
জারিন, আয়েশা আর শবনম অতি উৎসাহে আমাকে দাঁড় করিয়ে দিলো। একা একা বেইজ্জতি হওয়ার কোন মানে হয় না। আমিও ওদের টেনে খেলার মাঠে নামিয়ে দিলাম। আমার কপালে উঠলো পাঠক। পাঠক নিয়ে কি বলবো কিছুই বুঝলাম না। ইংরেজি বাদে পৃথিবীর সব ভাষার শব্দ মিলিয়ে কিছু একটা বলে দিলেই হবে ভেবে বলা শুরু করলাম। আবোলতাবোল কি বলেছিলাম এখন সব আর মনে নাই। যা মনে আছে সেটাও লিখতে চাচ্ছি না। বাংলায় তিরিশ সেকেন্ড কথা বলতে পেরেছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
আঁতেল আয়েশা আর শবনম ডাহা ফেল করলেও জারিন ‘মা’ নিয়ে বেশ ভালো একটা লেকচার দিয়ে ফেললো। শুনে আমরা সবাই মুগ্ধ। মুগ্ধতার রেশ কাটতে কাটতেই আমরা স্টল পেয়ে গেলাম। পাশেই প্রথমার স্টল। একটু উঁকি দিতে গেলাম। প্রথমে দুইটা, এরপর আরো একটা বই চোখে পড়লো। একটা লেখকের নাম দেখে আর দুইটা প্রচ্ছদ দেখে। একটা রেখে বাকি দুইটা কিনে ফেললাম।
ফিরে আসার সময় গেটে অ্যান্টিকাটার ফিরে পাওয়ার একটা চেষ্টা চালানো হলো। পাওয়ার কোন আশা আমার ছিল না। তবু খোঁজাখুঁজি চললো। বেশ কিছুক্ষণ পর শবনমেরটা পাওয়া গেল। একটা যখন পাওয়া গেছে তখন আরেকটাও পাওয়ার কথা। কিন্তু পেলাম না। আশা ছেড়ে দিয়ে আমরা বেরিয়ে এলাম।
টিএসসিতে এখন আর চা খাওয়ার সুযোগ নেই। ফিরে যেতে হবে। তবে ফেরার আগে একটা পোস্টারের স্টল চোখে পড়লো। সিনেমা, সিরিজ, ক্যারেকটার থেকে গানের কথা দিয়ে বানানো ছোট বড় পোস্টার। দুইটা কিনে ফেললাম। কেন কিনলাম নিজেও জানি না।
ঢাকা শহরের অর্ধেক জ্যাম পেরিয়ে আমরা বাড়ি ফিরলাম। গাড়ি থেকে যখন নামলাম তার একটু পরেই আমাদের শর্টফিল্ম ‘অন্য ঘরে’ প্রিমিয়ার হবে ইউটিউবে। আমি পা চালালাম। তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে হবে।
2 comments
Good read.
পড়তে পড়তে মনে হলো বই মেলাটা ঘুরে আসলাম আবার!মনে রাখার একটা দিন ছিলো! ডিটেইলস কিছু ভুলে যাওয়ারও আর কোনো সম্ভাবনা নাই!