Arthur Morgan on horseback overlooking a golden sunset in Red Dead Redemption 2

রেড ডেড রিডেম্পশন ২: যাদের বলেছিলাম, পরে কথা হবে

আর্থার মর্গানের গল্প, ধীরে চলার সৌন্দর্য, আর আর পরে কথা হবে বলা মানুষগুলোর কথা।
0 Shares
0
0
0

ছোটবেলা থেকে কম্পিউটারে গেম খেলার কপাল আমার বরাবরই খারাপ। (প্রায়) সব সময় খুব আগ্রহ নিয়ে ইন্সটল করার পর দেখা যেতো গেম শুরুই হচ্ছে না। অথবা চললেও অর্ধেক খেলার পর চলাচল বন্ধ। কাজেই বছর ছয়েক আগে প্রথম যখন রেড ডেড রিডেম্পশন টু ইন্সটল করলাম তখনো চললো না।

তবে কিছুদিন পরই গেমটা আমি খেলতে পেরেছিলাম। খেলা শুরু করে আমি মুগ্ধ। সবকিছু এত ডিটেইলে কোন গেম দেখাতে পারে আমার কোন আইডিয়াই ছিল না। থাকার অবশ্য কথাও না। কয়টা গেমই আর খেলেছি। কোনটাই তো আর চলতো না!

এইসব ওপেন ওয়ার্ল্ড গেম আমার সব সময়ই ভালো লাগে। আর এই গেমে যেহেতু অনেক কিছু করার আছে তাই কিছুদিন পর দেখা গেল মিশন সাইডে রেখে মাঝেমধ্যেই ঘোড়া নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। ম্যাপের এক কোণা থেকে আরেক কোণায় চলে যেতাম সেখানে কি আছে দেখার জন্য। পাহাড়, নদী, জঙ্গল পেরিয়ে ছোট্ট শহরে পৌছাতাম। কোথাও তাড়াহুড়া নেই। একটু থেমে কিছুটা এগিয়ে চলা বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই।

রাতে ক্যাম্পে ফিরে আগুনের পাশে বসে গ্যাংয়ের বাকিদের গল্প শুনতাম অথবা দেখতাম কেউ গিটার বাজাচ্ছে, কেউ চুপচাপ বসে আছে। এই মানুষগুলোর সুখ-দুঃখে জড়িয়ে কখনো রাগ আর কখনো মায়া নিয়ে গেম খেলছি না বলে বলা উচিত হাঁটছি, দেখছি, শুনছি। তখনও অবশ্য ভাবতেই পারিনি এই ছোট এবং অতি সাধারণ মুহূর্তগুলোই একসময় সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।

আর্থারের শরীর যখন একটু একটু করে ভেঙে পড়তে লাগলো আর সে নিজের অতীত-ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শুরু করলো তখন মনে হলো জীবনটা আসলে অনেক অসমাপ্ত কথার নাম। শুরুতে মনে হয় পুরো পৃথিবী অপেক্ষা করছে। পরে বুঝতে পারি অপেক্ষা আসলে খুব কম জিনিসই করে। মানুষ বদলে যায়, সম্পর্ক বদলে যায়, সুযোগও চলে যায়। প্রতি মুহূর্তে কত কি পিছিয়ে রাখি, কতজনকে বলি “আবার দেখা হবে”, “পরে কথা হবে”। সেই ‘পরে’ কি সবসময় ফিরে আসে?

আর্থারের বেলায় আসেনি। ডাক্তার যখন বললো যক্ষ্মা হয়েছে। বাকি সময়টা হাতে গোনা। তখন থেকে সবকিছু বদলে গেল। এতদিন যে মানুষটা চোখ বুজে “I have a plan” বলা ডাচের প্ল্যানের উপর ভরসা করে সব করেছে। হঠাৎ সে বুঝতে পারলো তার পুরো জীবনই আসলে একটা ফাঁপা বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে ছিল। যে ভবিষ্যতের জন্য সে ছুটে বেড়িয়েছে সেই ভবিষ্যৎ তার জন্য না।

জীবনের শেষ প্রান্তে আর্থারের একদিকে ভেঙ্গে যাওয়া বিশ্বাস আর অন্যদিকে লোভ আর ক্ষমতার নেশায় অন্ধ একদল মানুষ। আর্থার বেছে নিলো সবচেয়ে বড় সম্পদ “সম্পর্ক”। সে জানত সে বাঁচবে না। তবু শেষ দিকে যেভাবে জন মার্সটনকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, স্ট্রাউসের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের কাজ ছেড়ে দেয়, নিজের ভুলগুলো স্বীকার করে। সেগুলোই আর্থারের আসল জয়।

গেমটা শেষ করার পর অনেকদিন রেশ থেকে গেল। কয়েকটা ওয়েস্টার্ন জনরার সিনেমা দেখে ফেললাম। দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলি, আনফরগিভেন। এরপর আমার গেম খেলার কপালকে সুপ্রসন্ন করে আরো গেম খেললাম। প্রত্যেকটাই অসাধারণ এবং আমার জীবনে খেলা অন্যতম সেরা গেমস। তবে আর্থারের জীবনের সেই গভীরতা বা রাতের নিস্তব্ধতা আর কোনোটাতেই পাইনি। গ্রাফিক্স বা বন্দুকযুদ্ধ দিয়ে যা হয়নি, সেটা হয়েছে নীরবতা দিয়ে। মাঝেমাঝে এখনো মনে পড়ে সূর্যাস্তের দিকে ঘোড়া ছুটিয়ে যাওয়া, ক্যাম্পের আগুন, দূরের পাহাড়, আর কিছু নীরব মুহূর্ত।

ধীরে চলার আসলে একটা সৌন্দর্য আছে, সম্পর্কের একটা দাম আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *