চার্লি নাকি হিমুর মতো।
আমার জীবনে দেখা প্রথম মালায়ালাম সিনেমার নাম চার্লি। কলেজে পড়ার সময় আমার ভাই দেখিয়েছিল। অদ্ভুত মুগ্ধতা নিয়ে দেখেছিলাম। দেখতে দেখতে ভুলে গেলাম এটা হিমু না, চার্লি। হিমুর সাথে অমিল আছে কিছুটা কিন্তু মিল বিস্তর। সেই মিল আর অমিলের হিসাব না মিলিয়ে আজ বরং মুগ্ধতা নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করি।
কতটুকু পারবো জানি না। কারণ কিছু মুগ্ধতা ভাষার বর্ণনায় প্রকাশ করা দুষ্কর, তা অনুভব করতে হয়।
চার্লি মুক্তি পেয়েছিল ২০১৫ সালে। আজ থেকে ঠিক দশ বছর আগে। এই দশ বছরে দুনিয়া বদলে গেছে কিন্তু চার্লির আবেদন একটু কমেছে বলে মনে হয় না। উলটো বেড়েছে। কারণ এই সিনেমার প্রতিটা ফ্রেম রহস্যময় সুন্দর। সেই রহস্য আমাদের মোহগ্রস্ত করে রাখে। সিনেমা শেষ হয় কিন্তু মোহ কাটে না। এমনই অদ্ভুত সুন্দর এই সিনেমার প্রতিটা মুহূর্ত।
পুরো সিনেমা জুড়ে নায়িকা চার্লিকে খুঁজে বেড়ায়। খুঁজতে গিয়ে কত মানুষের সাথে আলাপ হয় তার। আর প্রতিবার সে নতুন করে আবিষ্কার করে চার্লিকে। সেই সাথে আমরাও। চার্লির চোখে জীবন মানেই উৎসব।
অবাক হয়ে আমরা দেখি জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত বেঁচে থাকা চার্লি অদ্ভুত আবেশ প্রতিটা চরিত্রকে জড়িয়ে রাখে। সেই আবেশ নিয়ে বেঁচে থাকে জীবনের শেষ প্রান্তে নিজেকে ফেলে দেয়া আশাহীন মূর্তিরা।
চার্লি উত্তর দেয় না, প্রশ্ন জাগায়। শেখায় ভালো নেই, তবু ভালো। সে ঘুরে বেড়ায়, হঠাৎ এসে কারো জীবনে আলো জ্বালিয়ে আবার হারিয়ে যায়। এমন অদ্ভুত চরিত্র বলেই চার্লি আমাদের মুগ্ধ করে। সেই মুগ্ধতা কখনো শেষ হয় না।
তাই এই সিনেমা দেখার পরেই দুলকার সালমানের আরেকটা সিনেমা দেখতে বসি। সিনেমার নাম Bangalore Days। এরপর দেখি Ustad Hotel, বাংলা হিন্দি আর ইংরেজির বাইরে অন্য ভাষার এবং তারপর অন্য দেশের সিনেমা দেখা সেই শুরু।