বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসা বলে একটা কথা আছে। বই থেকে যখন সিনেমা সিরিজ হয় তখন বইয়ের চরিত্রগুলো যখন প্রায় হুবহু পর্দায় উঠে আসে তখন বলা হয় বইয়ের পাতা থেকে উঠে এসেছে। সৃজিত মুখার্জির পদাতিক যেহেতু বাস্তব কাহিনীর ওপর নির্মিত তাই বইয়ের পাতা থেকে উঠে এসেছে এমন বলার সুযোগ নেই। তবে বলা যায় চরিত্রগুলো বাস্তব জীবন থেকে এসে পর্দায় অভিনয় করছে।
মৃণাল সেন তো বটেই, অন্যদের কথা বলি। যেমন ধরুন প্রথম যখন ইন্দিরা গান্ধীকে দেখলাম তখন কয়েক মুহূর্ত বুঝতেই পারিনি এই চরিত্রে অন্য কেউ অভিনয় করছে। তারপর একটা সিনে উত্তম কুমারকে দেখা যায়। ভয়েসটা এআই দিয়ে করা কিনা জানি না তবে ভয়েসের সঙ্গে গেটআপ মিলিয়ে উত্তম কুমারকে দেখে উত্তম কুমারই লেগেছে। আর একই প্রযোজনা সংস্থা হওয়ায় ‘অপরাজিত’ সিনেমার ফুটেজ, নামধাম ব্যবহার করে যেভাবে ক্রসওভার হয়েছে তা আলাদা ভালো লেগেছে।
তবে সিনেমাটা যেহেতু মৃণাল সেনের বায়োপিক, অন্যান্য চরিত্রকে সাপোর্টিং কাস্ট হিসেবেই ধরে নেয়া যায়। এখানেই সৃজিৎ মুখার্জি লাইন থেকে সরে গিয়েছেন। মৃণাল সেনকে আরেকটু এক্সপ্লোর না করে তিনি হঠাৎ হঠাৎ সত্যজিৎ রায়কে ট্রিবিউট দিতে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আর মেকআপের কাজ ভালো হলেও অনেক জায়গাতেই কৃত্রিম লেগেছে।
এই সিনেমার মেকিং এ মৃণাল সেনের একটা ধাচ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন যেই চরিত্রে যিনি অভিনয় করছেন তিনি দর্শকের সাথে কথা বলছেন। তার কথা বা হাটাচলার সাথে আমরা আবার সিনেমায় ঢুকে যাচ্ছি। এডিটর দারুণ কাজ করেছেন। মৃণাল সেনের বাস্তব সিনেমার ফুটেজ ব্যবহার করে এই সিনেমার ন্যারেটিভ যেভাবে এগিয়ে নেয়া হয়েছে তা এক কথায় অনবদ্য।
আমি ভেবেছিলাম খুব স্লো আর বোরিং একটা সিনেমা হবে। তা একদমই হয়নি। বেশ উপভোগ্য তবে সমস্যা হচ্ছে অল্প কয়েকটা সিন বাদ দিলে ইমোশন কাজ করে না। সৃজিত মুখার্জির এখনকার সিনেমা সিরিজে এটা অবশ্য নতুন কিছু না। যেমন ফেলুদা নিয়ে তিনি থ্রিল ছাড়া থ্রিলার বানিয়েছেন। তবু ইদানিং মাসে মাসে যেসব সিনেমা বানান তার চাইতে পদাতিক অনেক ভালো সিনেমা।